/ Beauty: Care /

মাড মাস্ক তৈরি ও ব্যবহারের নিয়ম

Hebiro Stuff on July 14, 2016 - 11:44 pm » CATEGORY: Beauty: Care

মাড মাস্ক সৌন্দর্যচর্চায় অনেক ব্যবহৃত হয়। এটি কয়েক ধরনের কাদা দিয়ে তৈরি করা পেস্ট। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল সরিয়ে দিতে পারে। ফলে ত্বক থাকে ব্রণমুক্ত। ডিটক্সিফিকেশনে এর ভূমিকা অসামান্য, পাশাপাশি এটি রোমকূপের মুখ খুলে দেয়, যাতে ত্বক প্রয়োজনীয় শ্বাস নিতে পারে। পরিবর্তন ঘটে ত্বকের রঙের। মাড মাস্ক মুখত্বকের সেলগুলো রিল্যাক্স করে দেয়, ত্বক টান টান করে তোলে। দশ মিনিটের বিউটি ম্যাসাজ নেয়া আর কাদা দিয়ে তৈরি মাস্ক ব্যবহারের উপকারিতা প্রায় একই রকম বলে মনে করেন বিউটিশিয়ানরা। ব্যাকটেরিয়া আর মৃতকোষও এটি অপসারণ করে।

কেবল মুখত্বকে নয়, মাড মাস্ক সারা শরীরেও ব্যবহার করা যায়। তৈরির পদ্ধতিও খুব সহজ। সাধারণত কয়েক ধরনের কাদা এতে ব্যবহার করা হয়। গ্রিন ক্লে, হোয়াইট ক্লে, রেড ক্লে, পিঙ্ক ক্লে, বেনটোনাইট ক্লে, কাওলিন ক্লে এবং ফুলারস আর্থ বা মুলতানি মাটি। সবই সুপারশপে পাওয়া যায়। তবে মুলতানি মাটি খুব সহজেই পাওয়া যায় আমাদের দেশে, তা দিয়েও মাড মাস্কের কাজ সারা যাবে। যদিও একেক ধরনের মাটির কাজ আবার একেক রকম। যেমন গ্রিন ক্লে- ত্বকের টক্সিন কমায়। এতে প্রচুর অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান আছে। ফলে ব্রণের চিকিৎসায় কার্যকর। হোয়াইট ক্লে- সব রকম ত্বকের উপযোগী। নরম ও মসৃণ করে তোলার কাজে অনন্য। রেড ক্লে- একে বলা হয় জেন্টল ক্লে। শুষ্ক ও সেনসেটিভ ত্বকের জন্য কার্যকর। পিঙ্ক ক্লে- ক্লান্ত, মৃতপ্রায় ত্বক নতুন করে জাগিয়ে তোলে। এতে আছে ক্লিনজিং প্রপার্টিজ। যা ত্বকে জমে থাকা ময়লা সরিয়ে দেয়। বেনটোনাইট ক্লে, কাওলিন ক্লে এবং ফুলারস আর্থ ত্বকের নানা সমস্যা সমাধানে কার্যকর।

মাড মাস্ক তৈরি ও ব্যবহারের নিয়ম

মাড মাস্ক তৈরি ও ব্যবহারের নিয়ম

ব্যবহারের আগে
হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। এর ফলে ত্বকের রোমকূপগুলোর মুখ খুলে যাবে। মাড মাস্ক ব্যবহারের কার্যকারিতা বেড়ে যাবে দ্বিগুণ। মুখত্বকও খুব পরিষ্কার হওয়া চাই। মুখত্বকে রেখে দিতে হবে কমপক্ষে পনেরো মিনিট। তবে সবচেয়ে ভালো হয় শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করলে। মাস্ক ব্যবহারের পর তুলে ফেলার আগ পর্যন্ত মুখত্বক যথাসম্ভব স্বাভাবিক রাখা উচিত। কথা বলাসহ বিভিন্ন অভিব্যক্তিতে ত্বকে ভাঁজ পড়ার আশঙ্কা থাকে। সুতরাং মাস্ক লাগিয়ে অনুভূতির প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে হবে। সব সময়ই তুলতে হবে ঠান্ডা পানি দিয়ে। এর পর ব্যবহার করতে হবে ত্বক উপযোগী ময়শ্চারাইজার।

মাড মাস্ক তৈরি
একেক ধরনের ত্বকের জন্য প্রয়োজন একেক রকম উপকরণ। কারণ, সব ত্বক একই রকম মাড মাস্ক উপযোগী নয়। যেমন-

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য
দুই চা-চামচ মুলতানি মাটি, এক চা-চামচ গোলাপজল, এক চা-চামচ মধু এবং দু-তিন ফোঁটা টি ট্রি অয়েল। এই উপকরণগুলো ভালো করে মিশিয়ে নিন। তারপর পরিষ্কার ত্বকে সমানভাবে লাগিয়ে রেখে দিন পনেরো থেকে বিশ মিনিট।

ব্রণপ্রবণ ত্বকের জন্য
একটা শসা কেটে ছোট ছোট টুকরো করে নিন। তারপর দেড় টেবিল-চামচ সবুজ মাটি বা গ্রিন ক্লের সঙ্গে মেশান এক টেবিল-চামচ গোলাপজল। এবার কাদার মিশ্রণ আর শসা একসঙ্গে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে মসৃণ পেস্ট তৈরি করে নিন। ব্রণ কমানোর পাশাপাশি এ মাস্ক ত্বকে চটজলদি উজ্জ্বলতা নিয়ে আসবে।

ত্বক পুনরুজ্জীবিত করে তুলতে
এক টেবিল-চামচ পিঙ্ক ক্লে বা গোলাপি মাটি, দুই টেবিল-চামচ গোলাপজল, এক ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল কিংবা নারকেল তেল। অথবা সম্ভব হলে অরেঞ্জ অয়েল। এসব উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে স্মুদ পেস্ট তৈরি করে নিন।

বয়স প্রতিরোধক
একটি অ্যাভোকাডো বা পাকা কলা হাত দিয়ে স্ম্যাশ করে পেস্ট করে নিন। এবার নিন এক টেবিল-চামচ রেড ক্লে বা লাল মাটি, দুই  টেবিল-চামচ ওটমিল, তিন টেবিল-চামচ গোলাপজল, এক ফোঁটা নারকেল তেল, এক ফোঁটা রোজ এসেনশিয়াল অয়েল। সব উপকরণ একসঙ্গে একটি পাত্রে মেশান। খুব ভালোভাবে মিশে মসৃণ হয়ে এলে তা অ্যাপ্লাই করুন।

মিশ্র ত্বকের জন্য
মাস্কটি বানানো খুব সহজ। এক টেবিল-চামচ মুলতানি মাটির সঙ্গে দুই টেবিল-চামচ টাটকা অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে নিন। মসৃণ হয়ে এলে ব্যবহার করুন ত্বকে।

শুষ্ক থেকে সাধারণ ত্বকের জন্য
এক টেবিল-চামচ সাদা মাটি, এক টেবিল-চামচ মধু এবং এক  টেবিল-চামচ গ্লিসারিন আলতোভাবে মিশিয়ে তৈরি করুন ময়শ্চারাইজিং ক্লে মাস্ক।

SOURCE: ক্যানভাস / রত্না রহিমা / মডেল: মাইশা / মেকওভার: পারসোনা

598 views

0 POST COMMENT

Send Us A Message Here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

sixteen + 7 =