/ Beauty: Care /

স্ক্যাল্পের সুস্থতায়

Hebiro Stuff on July 21, 2016 - 10:58 am » CATEGORY: Beauty: Care

স্ক্যাল্পের সুস্থতায়ঘন কালো মাথাভর্তি চুলের ঠিক নিচেই স্ক্যাল্পের স্পর্শকাতর অংশ। চুল নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ থাকলেও মাথার এই অংশ নিয়ে খুব কম মানুষ মাথা ঘামান। ভুলে যান স্ক্যাল্পেরও যত্ন জরুরি। কারণ, সুস্থ স্ক্যাল্পই নিশ্চিত করে উজ্জ্বল ঝলমলে চুল। তাই স্কিন কেয়ার, হেয়ার কেয়ার, বডি কেয়ারের সঙ্গে বিউটি রেজিমে যোগ হোক স্ক্যাল্প কেয়ারও।


স্ক্যাল্পের ধরন
মুখত্বকের মতো মাথার ত্বকেরও রকমফের হয়। স্বাভাবিক, তৈলাক্ত ও শুষ্ক- মূলত এ তিন ভাগে ভাগ করা যায় স্ক্যাল্পকে। স্বাভাবিক স্ক্যাল্পে সিবাশিয়াস গ্ল্যান্ড কম থাকে। ফলে অতিরিক্ত তেলে ভাব থাকে না। খুশকি কিংবা শুষ্কতার মতো সমস্যাও খুব একটা হয় না। স্বাভাবিক চুলে ব্যবহারের উপযোগী শ্যাম্পু দিয়ে সপ্তাহে দুবার এ ধরনের স্ক্যাল্প পরিষ্কার করলেই যথেষ্ট। আর মাসে অন্তত একবার চাই হট অয়েল ট্রিটমেন্ট। এতে স্ক্যাল্পের অয়েল গ্ল্যান্ডগুলো উদ্দীপ্ত হয়। রক্ত চলাচল বাড়ে। মাথার ত্বক সুস্থ থাকে। স্বাভাবিক স্ক্যাল্পের জন্য মাসে একবার স্ক্যাল্প মাস্ক ব্যবহার জরুরি। একটা পাকা অ্যাভোকাডোর সঙ্গে অর্ধেক কাপ নারকেল আর এক টেবিল-চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে মসৃণ পেস্ট তৈরি করে তা মাথার ত্বকে ব্যবহার করা যেতে পারে। তৈলাক্ত স্ক্যাল্পে খুশকি প্রধান সমস্যা। এ ছাড়া অতিরিক্ত তেল নিঃসরণের ফলে মাথার ত্বকের লোমকূপগুলো বন্ধ হয়ে যায়। ফলাফল, নেতিয়ে পড়া তেল চিটচিটে চুল। তৈলাক্ত স্ক্যাল্পে প্রতিদিন ডিপ ক্লিনজিং শ্যাম্পু ব্যবহার করা জরুরি। খুশকি থাকলে অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ইজ আ মাস্ট। আর তেলে মাথায় বাড়তি তেল না দেয়াই ভালো। বরং খালি হাতের ম্যাসাজই বেশি জুতসই। খুব বেশি আঁচড়াবারও দরকার নেই। কারণ, এতে তেল নিঃসরণ আরও বেড়ে যায়। তৈলাক্ত স্ক্যাল্পের এ সমস্যা নিরসনে দই ও লেবুর রস দিয়ে তৈরি মাস্ক চমৎকার সলিউশন। শুষ্ক স্ক্যাল্পে চুলকানি এবং ফ্লেকিংয়ের সমস্যা থাকে। সঙ্গে অতিরিক্ত শুষ্ক ভাবটাই মূল শত্রু। এ ধরনের স্ক্যাল্পে তেল দেয়া ভীষণ জরুরি। শ্যাম্পু করার আগের দিন রাতজুড়ে মাথায় তেল রাখা যেতে পারে। আর সপ্তাহে দুদিন হট অয়েল ট্রিটমেন্ট। শ্যাম্পুতেও যেন ন্যাচারাল অয়েল থাকে। আর ড্রাই স্ক্যাল্পে বাড়তি যত্ন নিতে একটা আস্ত লেবুর অর্ধেকটা কেটে সার্কুলার মোশনে মাথায় ঘষে নেয়া যেতে পারে। এতেও চুলের আড়ালের ত্বক ভালো থাকবে।

স্ক্যাল্পের সুস্থতায়

ম্যাসাজ
নিয়ম করে স্ক্যাল্প ম্যাসাজ করা চাই। এতে ব্লাড সার্কুলেশন বাড়ে। স্ক্যাল্প সুস্থ থাকে। পুষ্টি পৌঁছে যায় চুলের গভীরে। চুলের গোড়া শক্ত হয়। দূর হয় খুশকি। স্ক্যাল্প ম্যাসাজের বিভিন্ন ধরনের টেকনিক রয়েছে। সার্কুলার মোশনে ধীরে ধীরে ম্যাসাজ মাথার ত্বক সুস্থ রাখার সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি। এতে স্ক্যাল্পের রক্ত চলাচল তো বাড়েই, সঙ্গে দূর হয় স্ট্রেস। রাখে রিল্যাক্সড। চুল টেনেও করা হয় স্ক্যাল্প ম্যাসাজ। তবে হালকা হাতে। এ ধরনের ম্যাসাজে চুল দ্রুত বাড়ে। এ ছাড়া আছে ট্যাপিং ম্যাসাজ টেকনিক। এ ক্ষেত্রে আঙুলের মাথা দিয়ে আস্তে আস্তে টোকা দিয়ে স্ক্যাল্প ম্যাসাজ করা হয়। এতেও রক্ত চলাচল বাড়ে। খালি আঙুলে স্ক্যাল্প ম্যাসাজ করা যায়। তবে নারকেল, অলিভ কিংবা আমন্ড অয়েলের সঙ্গে এসেনসিয়াল অয়েলের ব্যবহার স্ক্যাল্প ম্যাসাজকে আরও বেশি কার্যকর করে তোলে। যাদের খুশকির সমস্যা, তারা ব্যবহার করতে পারেন টি ট্রি অথবা ল্যাভেন্ডার এশেনশিয়াল অয়েল। পিপারমিন্ট কিংবা রোজমেরি অয়েল ব্যবহারে চুল পড়া কমে। রোজ কিংবা ক্যামোমাইল অয়েল স্ক্যাল্পে জরুরি আর্দ্রতার জোগান দেয়। কমায় শুষ্ক ম্যাড়মেড়ে ভাব। তাই সপ্তাহে অন্তত তিন দিন নিয়ম করে স্ক্যাল্প ম্যাসাজ জরুরি।

এক্সফোলিয়েশন
মাথার ত্বকেও প্রচুর মৃতকোষ জমে, যা চুলের বেড়ে ওঠায় বাধা দেয়। মাথায় ময়লা বাড়ায়। ফলে চুল পড়া দ্রুততর হয়। কমে ঘনত্ব। তাই মাথার ত্বকে নিয়মিত এক্সফোলিয়েশন দরকার। এ ক্ষেত্রে সপ্তাহান্তে একবার এক্সফোলিয়েটিং শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ছাড়া স্যালিসাইলিক অ্যাসিডযুক্ত শ্যাম্পুও বেশ ভালো এক্সফোলিয়েটরের কাজ করে। তবে হাতের কাছে এই বিশেষ শ্যাম্পু না থাকলে আছে সহজ বুদ্ধি। রোজকার ব্যবহৃত শ্যাম্পুর সঙ্গে মোটা দানার চিনি মিশিয়ে নেয়া যেতে পারে। শ্যাম্পু করার সময় তা স্ক্যাল্পে ভালো করে ঘষে নিলেই চলবে। এ ছাড়া বাসায় বসেই তৈরি করে নেয়া যায় স্ক্যাল্প স্ক্রাব। সমপরিমাণ ব্রাউন সুগার, ওটস আর হেয়ার কন্ডিশনার একসঙ্গে মিশিয়ে তৈরি হয় চমৎকার স্ক্রাব। শ্যাম্পু আর বেকিং সোডার মিশ্রণও চমৎকার এক্সফোলিয়েটর। সামুদ্রিক লবণ, লেবুর রস আর অলিভ অয়েলের মিশ্রণও স্ক্যাল্প সুন্দর পরিষ্কার করে দেয়।

ডায়েটারি প্ল্যান
প্রোটিন প্রয়োজন সুস্থ স্ক্যাল্পের জন্য। এমন প্রোটিন থাকা চাই খাদ্যতালিকায়, যা একই সঙ্গে জিঙ্ক, আয়রন ও ভিটামিন বি’র মতো অন্য পুষ্টিগুণগুলোর জোগান দেবে। সে ক্ষেত্রে মাংস, ডিম, চিংড়ি, কুমড়ার বিচি, পনির আর সামুদ্রিক মাছ থাকতে পারে রোজকার মেন্যুতে। ভিটামিনেরও জোগান দেয়া জরুরি। ভিটামিন এ এবং সি স্ক্যাল্পে অক্সিজেন চলাচল বাড়ায়। ব্লু বেরি, ক্যাপসিকাম আর পালংশাকের মতো সবুজ শাকসবজিতে পর্যাপ্ত ভিটামিন সি পাওয়া যায়। আর মিষ্টি আলু, গাজর দেয় ভিটামিন ‘এ’র জোগান। জিঙ্ক খুশকি কমিয়ে স্ক্যাল্পের সুস্থতা বজায় রাখে। চুল পড়াও রোধ করে। ফলিক অ্যাসিড স্ক্যাল্পে নতুন কোষ উৎপাদনে সহায়তা করে। আয়রন চুলের পাতলা হয়ে যাওয়া রোধ করে। কমায় ডিসকালারেশন। পর্যাপ্ত আয়রন থাকে মাংস, মুরগির কলিজা ও সামুদ্রিক মাছে। কাঁকড়া, লবস্টার, বাদাম আর দুগ্ধজাত খাবার জিঙ্কের জোগান দেয়। আর ব্রকোলি, অ্যাভোকাডো, নানা ধরনের শস্যদানা, ডাল, গাজর, ফুলকপিতে পাওয়া যায় দরকারি ফলিক অ্যাসিড। তবে স্ক্যাল্প সুস্থ রাখতে চাইলে চিনি খাওয়া কমাতে হবে। কারণ, চিনি খুশকির মাত্রা বাড়ায়। তাই সোডাজাতীয় পানীয়, বেক করা মিষ্টি দ্রব্য, ক্যান্ডি কিংবা প্রক্রিয়াজাত মিষ্টি খাবার না খাওয়াই ভালো।

এ ছাড়া খুব বেশি গরম পানিতে মাথা ধোয়া, হেয়ার ড্রায়ারের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার কিংবা খুব শক্ত করে চুল বাঁধা স্ক্যাল্পের ক্ষতির কারণ। এই অভ্যাসগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো।

SOURCE: ক্যানভাস / জাহেরা শিরীন / মডেল: ওশিন / মেকওভার: পারসোনা

115 views

0 POST COMMENT

Send Us A Message Here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × 3 =