/ Real Life Story /

বসুন্ধরা সিটিতে ইফতারের নামে চলছে ‘প্যাকেজের ফাঁদ’

বসুন্ধরা সিটিতে ইফতারের নামে চলছে 'প্যাকেজের ফাঁদ'
Hebiro Stuff on June 7, 2017 - 3:00 pm » CATEGORY: Real Life Story

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের জনপ্রিয় বিপণি বিতান বসুন্ধরা সিটি কেনাকাটার জন্য ধনী থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত-নিম্ন মধ্যবিত্তেরও পছন্দের জায়গা। ঈদের কেনাকাটা করতে আসা অধিকাংশ পরিবারগুলো রাস্তার দীর্ঘ যানজট ঠেলে বাসায় পৌঁছে আর ইফতারের সময় মেলাতে পারেন না বলে বসুন্ধরা সিটিতেই তা সারার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু ইফতার করতে গিয়ে সাধ আর সামর্থ্যের মধ্যে সমন্বয় করতে না পারার অভিযোগ অনেকের।

তারা বলছেন, ‘প্যাকেজের’ নামে চড়া দামে বিক্রি হওয়া ইফতারির প্যাকেট কিনতে না পেরে শুধু এক বোতল পানি দিয়েই রোজা ভাঙতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

শপিং কমপ্লেক্সটির ফুড কোর্টের খাবার দোকানগুলোতে ইফতার রয়েছে, কিন্তু প্যাকেট ছাড়া কেনার উপায় নেই।

ঈদে মেয়ের ফ্রক কেনার বায়না মেটাতে চাকরিজীবী মনোয়ার হোসেন বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সে এসেছিলেন। মার্কেটে ঘুরতে ঘুরতে ইফতারের সময় মেয়েকে নিয়ে হাজির হন ফুড কোর্টে, কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই অবাক হয়ে যান তিনি। একের পর এক দোকান ঘুরে দেখেন, সব দোকানেই ইফতার বিক্রি হচ্ছে প্যাকেজ আকারে, কম দামে খুচরা ইফতার কেনার সুযোগ নেই।

মনোয়ার হোসেন হেবিরো ডটকমকে বলেন, “ভেবেছিলাম শরবত আর পেঁয়াজু দিয়ে ইফতার সেরে বাসায় চলে যাবো, কিন্তু এখানে সব ইফতারই প্যাকেজে কিনতে হচ্ছে। এত দাম দিয়ে ইফতার কেনা আমার পক্ষে সম্ভব না, তাই শুধু এক বোতল পানি কিনে নিলাম।”

গত ৫ জুন সোমবার বিপণি বিতানটির ফুড কোর্ট ঘুরে দেখা যায়, সব দোকানেই ইফতার বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা প্যাকেট।

কম দামে ইফতার করতে গিয়ে হন্যে হয়ে ঘুরেও না পেয়ে হতাশ দেখা যায় অনেককে। তারা বলেন, খাবারের দোকানদাররা ‘প্যাকেজের ফাঁদ’ তৈরি করে বেশি দামে ইফতার কিনতে বাধ্য করছেন।

বুয়েট পড়ুয়া সাফওয়ান বিন আনিস বলেন, “সব দোকানের ইফতার প্যাকেজের খাবারও এক, দামও রাখছে একই। অল্প কিছু খেয়ে ইফতার করার সুযোগ নেই, আপনি না চাইলেও আপনাকে বেশি দাম দিয়ে ইফতার কিনতেই হবে।”

বিক্রেতাদের যুক্তি, ন্যায্য দামেই তারা ইফতার বিক্রি করছেন, প্যাকেটে খাবারের প্রকার বেশি বলে দামও বেশি রাখতে হচ্ছে তাদের।

‘টাং অ্যান্ড টামি’ রেস্তোরাঁর তত্ত্বাবধায়ক রুবেল আহমেদ হেবিরো ডটকমকে বলেন, “আমাদের ইফতারের প্যাকেজে ১৯টি আইটেম রয়েছে, ফলে দাম সে অনুযায়ী বেশি তো হবেই। আমরা আলাদা ইফতার বিক্রি করছি না, ইফতার কিনতে হলে আমাদের যে কোনো একটি প্যাকেজ বেছে নিতে হবে আপনাকে।”

৭০০ এবং ৩৫০ দুই দামের দুটো প্যাকেট আছে এই খাবার দোকানে।

৩৫০ টাকার প্যাকেটে রয়েছে একটি আপেলের চার ভাগের এক ভাগ, একটি মাল্টার চার ভাগের এক ভাগ, একটি বেগুনি, একটি পেঁয়াজু, ছোট এক খণ্ড তরমুজ, এক খণ্ড আনারস, এক খণ্ড গাজর, দুটি খেজুর, একটি আলুর চপ, একটি জিলাপি, এক টুকরা আম, এক টুকরা পেয়ারা, একটি কলা, শশার ছোট ছোট টুকরা, ছোলা, ফ্রায়েড রাইস, ফ্রায়েড চিকেন, শরবত ও ফিরনি।

বেসরকারি চাকরিজীবী সুমনা শারমিন বলছিলেন, “আইটেম বেশি দেখিয়ে অত্যাধিক দাম হাতিয়ে নিচ্ছে ওরা।”

দাম বেশি রাখার কারণ জানতে চাইলে ‘ইন্ডিয়ান স্পাইসির‘ এক কর্মী হেবিরো ডটকমকে বলেন, “পরে আসেন, পরে বুঝায়ে বলব আপনাকে। এখন বুঝাতে পারব না।”

‘লুসিয়াস পিজার’ ব্যবস্থাপক জামাল হোসেন দামের বিষয়ে কয়েকটি যুক্তি দেখান, “আমাদের দাম ধরতে হয় বাজারে খাবারের দাম, মার্কেটের সার্ভিস চার্জ ও ভ্যাট মিলিয়ে, ফলে দাম বেশি মনে হতেই পারে।”

973 views

0 POST COMMENT

Send Us A Message Here

Your email address will not be published. Required fields are marked *

sixteen + twenty =